বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।
গাজীপুর
গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, “দেশের সকল শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে পারলে আমরা নিরাপদ থাকব। কোনও ঘাটতি হবে না।”
গাজীপুর জেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ২৮ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। কার্যক্রম চলবে ১৫ দিন, জেলা সদর, টঙ্গী, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালিগঞ্জ ও পুবাইলসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে।
বরগুনা
বরিশাল বিভাগের হটস্পট বরগুনা সদর উপজেলায় ৪০টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের এক ডোজ করে এই বিশেষ হামের টিকা দেওয়া হবে এবং কার্যক্রম চলবে ২১ দিন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। জেলার নয়টি উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের টিকা দেওয়া হবে।
চাঁদপুর
চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলায় ৪৮৮টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলার ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সি ৭২,৮৭৪ জন শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা হবে।
রাজশাহী
গোদাগাড়ী উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে ১০০ থেকে ১২০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। গোদাগাড়ীতে ৬,২৭৮ শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পাবনা
পাবনা সদর, আটঘরিয়া, বেড়া ও ঈশ্বরদী উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ১,৮৩,৬৬৬ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। সদর উপজেলায় সংক্রমণ বেশি, তাই দোগাছি ও হেমায়েতপুর ইউনিয়নে বিশেষভাবে কার্যক্রম চলছে।
শরীয়তপুর
জাজিরা উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদেরকে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। খোশাল সিকদার কান্দির কেন্দ্রে রোববার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১৭৫ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। আগামী তিন সপ্তাহে অন্তত ৩০,০০০ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, এ বছর জেলায় ৫৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই কার্যক্রমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা সহযোগিতা করছে। এর মাধ্যমে দেশের শিশুদের নিরাপদ ও সুস্থ রাখা হবে।