বিশেষ প্রতিনিধি, Hafizur Rahman।।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম অধিবেশন ঘিরে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই বিধানসভা কক্ষে ব্যাপক হট্টগোল দেখা দেয়। একপর্যায়ে স্পিকার নির্বাচন শুরুর আগেই ওয়াকআউট করেন বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা।
অধিবেশন শুরু হতেই শাসক দল বিজেপির বিধায়করা ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগান দিতে থাকেন। এর জবাবে তৃণমূল বিধায়করা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তোলেন। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন বিজেপি সদস্যরা ‘চোর চোর’ ও ‘ফাইল চোর মমতা’ বলে স্লোগান দেন। পাল্টা তৃণমূল বিধায়করা ভোট লুটের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান।
এই উত্তেজনার মধ্যেই স্পিকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হলে তৃণমূলের সদস্যরা কক্ষ ত্যাগ করেন। ফলে স্পিকার নির্বাচন কার্যত বিরোধীশূন্য পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। পরে অবশ্য কয়েক মিনিটের মধ্যে তৃণমূল বিধায়করা পুনরায় অধিবেশনে যোগ দেন। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, জাতীয় সঙ্গীত যথাযথভাবে পরিবেশন করা হয়নি।
এদিন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার নাম প্রস্তাব করেন এবং কণ্ঠভোটে তিনি নির্বাচিত হন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে এই প্রথম উত্তরবঙ্গ থেকে কেউ স্পিকারের দায়িত্ব পেলেন।
স্পিকার নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “গঠনমূলক বিরোধিতা চাই। বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়। সংবিধানের ভাষায় House belongs to the Opposition।” তিনি সরকার ও বিরোধী পক্ষকে সমানভাবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাসও দেন।
অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তার বক্তব্যে ভোট-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মানুষের মধ্যে ভরসা ফেরানো জরুরি। বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করা হচ্ছে।”
জবাবে বিজেপি বিধায়ক ও প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন, অতীতে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এখন পোস্ট পোল ভায়োলেন্স নিয়ে তাদের বক্তব্য দেওয়া ভণ্ডামি ছাড়া কিছু নয়।
হাফিজ/ আয়না নিউজ